দেশে ৬ জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

108

ঢাকা- বাংলাদেশে ছয় জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম।এর আগে দুপুরে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, দেশে ভারতের ডাবল মিউট্যান্ট ধরনের করোনা একজনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে।

আলমগীর বলেন, ‘এভারকেয়ার হাসপাতালে স্যাম্পল আমি দেখছি, না ধরা পড়লে তাদের সাইটে ইনফর্মেশনটি আপ করত না।’কয়জনের মধ্যে এরকম ধরন পাওয়া গেছে? -জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কয়জনের মধ্যে পাওয়া গেছে সেই সংখ্যাটা আমাদের কাছে আসেনি, তাই বলতে পারছি না।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ভারত থেকে দেশে ফেরার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকাদের মধ্যে ৬০ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে ফিরেছেন। তবে তারা করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কি না সেটি জানতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) করোনা মহামারির পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ড. রুবেদ আমিন।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ও অন্যান্য দেশের শক্তিশালী ভ্যারিয়েন্টের প্রবেশ ঠেকাতে ১৯ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

রুবেদ আমিন বলেন, দেশে ভারতের ডাবল ভ্যারিয়েন্টসহ অন্যান্য দেশের ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে বেনাপোল থেকে আসা ১ হাজার ২৫২ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬০ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশে এসেছেন।

উলেখ্য, ভারতে এই ভ্যারিয়েন্ট প্রথমে মহারাষ্ট্রে শনাক্ত হয় গত ৫ অক্টোবর। সম্প্রতি এটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙছে মৃত্যু ও শনাক্তের। আজ শনিবারও করোনাভাইরাস মহামারিতে একদিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে দেশটিতে। সরকারি হিসাবে ভারতে এদিন মৃত্যু হয়েছে চার হাজার ১৮৭ জনের। আর একই দিন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে চার লাখ এক হাজারের বেশি মানুষ।

ভারতে বর্তমানে মোট সক্রিয় রোগীর পরিমাণ ৩৭ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৬ জন। মোট মৃতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৮ হাজারের বেশি।

ভারতের নতুন ধরনের করোনা ভ্যারিয়েন্ট কোনোভাবেই যাতে বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে সেজন্য সীমান্ত ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ। গত ২৬ এপ্রিল থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। তবে যেসব বাংলাদেশির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তারা ভারতে বাংলাদেশি দূতাবাসের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছেন।