আজ ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :

এবার সেমিফাইনাল রোমাঞ্চের অপেক্ষা

অনলাইন ডেস্ক্র

দেখতে দেখতে ছোট হয়ে এলো টি২০ বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের পরিসর। মাঠ ও মাঠের বাইরে বাংলাদেশের হতাশা, এক ঝাঁক তারকা ক্রিকেটার নিয়েও ‘ডিফেন্ডিং’ চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ^াস্য ভরাডুবি, মোড়ল দেশ ভারতের নিদারুণ ব্যর্থতা, অনেক ঘটনা আর অঘটনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রথম রাউন্ড ও এবং সুপার টুয়েলভের খেলা। ছোট্ট ফরমেটের ক্রিকেটে শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে টিকে থাকল ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। আবুধাবিতে বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে ইয়ন মরগানের ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কেন উইলিয়ামসনের নিউজিল্যান্ড। দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার বাবর আজমের নেতৃত্বে উড়তে থাকা পাকিস্তানের সঙ্গে ফাইনালের টিকেটের জন্য লড়বে এ্যারন ফিঞ্চের অস্ট্রেলিয়া। ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বদনাম ঘুচিয়ে পাকিরা এবার অবিস্মরণীয় ক্রিকেট খেলছে। মনে হচ্ছে এই দলটাকে থামায় সাধ্য কার? সেমিতে কুলিন অসিদের সঙ্গে বড় ম্যাচেই হবে বাবরদের আসল পরীক্ষা। মরগানের অধীনে ইংলিশরাও দারুণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটের ক্ল্যাসিক্যাল এক দলে পরিণত হওয়া কিউইরা কি পারবে অতীতের দুঃখ ঘোচাতে- সব উত্তরের জন্য মাত্র দুটি ম্যাচের অপেক্ষা…।

সুখ-দুঃখ, রোমাঞ্চ-হতাশা, নাটক-অনিশ্চয়তা এসবই যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রতিচ্ছবি। এবারের বিশ^কাপও তার ব্যতিক্রম নয়। দল ঘোষণার দিন পদত্যাগ করেন কোচ মিসবাহ উল হক এবং ওয়াকার ইউনুস। বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারে আসেন রমিজ রাজা, দলে আসে একাধিক পরিবর্তন, শেষ মুহূর্তে ফেরানো হয় বর্ষীয়ান শোয়েব মালিককে। অথচ সেই দলটাই একের পর এক প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে উঠে এল সেমিফাইনালে। গ্রুপ-২এ পাঁচে পাঁচ। ১০ উইকেটের বিশাল জয়ে শুরুটা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে। যে ধাক্কা বিরাট কোহলির দল আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরপর ৫ উইকেটে নিউজিল্যান্ড-বধ। মোহাম্মদ নবি, রশিদ খানদের আফগানিস্তানকেও সমান ব্যবধানে হারায় বাবর-বাহিনী। দুর্বল নামিবিয়া ও স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয়ার পথে জয় ৪৫ ও ৭২ রানে। আইসিসির বৈষয়িক কোন টুর্নামেন্টে এত ধারাবাহিক, এত দুর্ধর্ষ পাকিস্তানকে আর কখনই দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চিরশত্রু ভারত-বধই পাকিদের মোমেন্টাম তৈরি করে দেয়। ৭ উইকেটে করা কোহলিদের ১৫১ রান সেদিন তারা টপকে যায় কোন উইকেট না হারিয়েই! বাবর অপরাজিত ৬৮, মোহাম্মদ রিজওয়ান ৭৯*। পরের দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড এবং আফগানিস্তান ম্যাচের শেষ দিকে যা একটু চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল, ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে সেটি উড়িয়ে দেন আসিফ আলি। খেলেন ১২ বলে ২৭ ও ৭ বলে অপরাজিত ২৫ রানের দুটি টর্নেডো ইনিংস।

গ্রুপ-২এ বাবরদের সঙ্গী হওয়া নিউজিল্যান্ড একমাত্র ম্যাচটি হারে ওই পাকিস্তানের কাছেই। ভারতের বিপক্ষে ৮ উইকেটের সাবলীল জয়ে ঘুরে দাঁড়ায় উইলিয়ামসনের দল। দুবাইয়ে সেদিন ৭ উইকেটে মাত্র ১১০ রান করে কোহলির ভারত! জবাবে ১৪.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। ওপেনার ড্যারিল মিচেল করেন ৪৯ রান, অধিনায়ক উইলিয়ামসন অপারাজিত ৩৩। মাত্র ১৭ রানের বিনিময়ে রোহিত এবং কোহলির উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিউই স্পিনার ইশ সোধি। এরপর ১৬ ও ৫২ রানে জয়ের পথে স্কটল্যান্ড এবং নামিবিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখে কিউইরা। নিউজিল্যান্ড-আফগানিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয় ত্রিমুখী উত্তাপ। কারণ আফগানিস্তান জিতলে আফগানদের সঙ্গে ভারতেরও সেমির ন্যূনতম আশা বেঁচে থাকবে, রেসে থাকবে নিউজিল্যান্ডও। কিন্তু উইলিয়ামসনদের অত সমীকরণে বয়েই গেছে! ৮ উইকেটের বড় জয়ের পথে রশিদ-নবীদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে পাঁচ ম্যাচে ৪ জয়ে দ্বিতীয় হয়ে সেমিতে উঠে আসে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। আফগানদের সঙ্গে হতাশায় বিশ^কাপ মিশন শেষ করে ভারত। অথচ আমিরাত ও ওমানে এবারের আসরের আয়োজক ইন্ডিয়ান বোর্ড (বিসিসিআই)।

অন্যদিকে গ্রুপ-১এ দারুণ ক্রিকেট খেলে ওয়ানডের বিশ^চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচের প্রথম চারটি জিতে সেফিাইনালের টিকেট নিশ্চিত করার পর আনুষ্ঠানিকতার শেষ ম্যাচে তারা ১০ রানে হারে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। জস বাটলার, ইয়ন মরগানরা চমৎকার ব্যাটিং করছেন। বোলিংয়ে ক্রিস ওকস, আদিল রশিদদের কথাও আলাদা করে বলতে হবে। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে যথারীতি আলো ছড়াচ্ছেন মঈন আলি। ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আগের টি২০ বিশ^কাপের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের হতাশা তারা ভুলেছিল ২০১৯-এ ওয়ানডে বিশ^কাপ জিতে। বিশে^র প্রথম দল হিসেবে পিঠেপিঠি মৌসুমে আইসিসির বড় দুটি শিরোপা জয়ের হাতছানি মরগানদের সামনে। দুটি মাত্র ম্যাচের অপেক্ষা। যেখানে সেমিতে তারা পাচ্ছে সেই কিউদের, লর্ডসের ফাইনালে তাদের হারিয়েই ওয়ানডের ঐতিহাসিক শিরোপা জিতেছিল ইংলিশরা। এই গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমির টিকেটের লড়াইটা অবশ্য বেশ জমে উঠেছিল। পাঁচ ম্যাচে সমান চারটি করে জয়ে ৮ পয়েন্ট অর্জন করে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু রানরেটে এগিয়ে থেকে সেমিতে ওঠে এখনও পর্যন্ত টি২০ বিশ^কাপের শিরোপার স্বাদ না পাওয়া অসিরা। নিজেদের শেষ ম্যাচে উড়তে থাকা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে, পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জিতেও বিদায় নিতে হয় টেম্বা বাভুমার দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

২০০৭ প্রথম টি২০ বিশ^কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হারা পাকিস্তান শিরোপা জেতে ২০০৯ সালে, পরের আসরে। ২০১০-এ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। অসিরা শিরোপা জিততে না পারলেও ওই একবার অন্তত ফাইনালে খেলেছিল, কিন্তু নিউজিল্যান্ড এই প্রথম সেমিফাইনাল খেলছে! তাও আবার গত ওয়ানডে বিশ^কাপের ফাইনালে হেরে যাওয়া ইংলিশদের সঙ্গে। পাকিস্তান না অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড না নিউজিল্যান্ড? কোন দুই দল যাচ্ছে এবারের টি২০ বিশ^কাপের ফাইনালের মঞ্চে? অপেক্ষা মাত্র দুটি মাত্র ম্যাচের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ :