আজ ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :

লৌহজংয়ে ভুয়া সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার

মো. শওকত হোসেন:

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে শিমুলিয়া ফেরি ঘাট থেকে মো.কবির হোসেন (৩২) নামে এক প্রতারক ভুয়া সেনা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।

আসামীর বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে রোববার (২২ মে) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

যানাযায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শিমুলিয়া ৩নং ফেরি ঘাটের পল্টুনের সৈনিক নেয়ামুল ক্যাপ্টেন আসিফকে (২৮ ইবি) ঢাকা থেকে নিয়ে আসার জন্য ফেরিতে ছিলেন। তখন সেনাবাহিনীর পোশাকে এক ব্যাক্তিকে দেখে সালাম দিয়ে জিগ্যাস করে গন্তব্য জানতে চান। তখন সে ব্যাক্তি সাভার যাবেন বলে জানান। সৈনিক নেয়ামুল সাভার কোথায় যাবেন বলে জিগ্যাস করলে সে সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। তার ইউনিফর্মে ঝোলানো আইডি কার্ড ও সৈনিকের আইডি কার্ডের কালার দেখে নেয়ামুল (২৮ ইবি) অ্যাডজুটেন্ট কর্মকর্তার কাছে ফোন করেন এবং তার ছবি পাঠিয়ে দেন।  পরে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় নিয়োজিত মাওয়া সেনাবাহিনীর বাসের (১৯ বীরের) টইল দল চার্লসের কাছে ভুয়া সেনা কর্মর্তাকে হস্তান্তর করা হয়। পরে লৌহজং থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ জানায়, ভুয়া সেনা সদস্য পরিচয়কারী নাম মো. কবির হোসেন, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ছোট ঘিঘাটি গ্রামের শাজাহান বিশ্বাস ছেলে,তার মাতা কোহিনুর বেগম। তিনি সেনাবাহিনীর পোশাক, বুট, ভুয়া আইডি কার্ড, ভূয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে বরিশালের টরকীবাজার থেকে প্রাইভেটকারে রাজিব হাওলাদারের থেকে ৪ লাখ টাকা বিনিময়ে, এবং মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে, সেনাবাহিনীতে মালি পদে চাকরির যোগাদানের কাগজপত্র দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসার পথে শিমুলিয়া মাওয়া ঘাটে ফেরিতে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্যরা ফেরি মধ্যে তার পরিহিত সেনাবাহিনীর পেশাক, পেশাকের সাথে সাদৃশ্য র‍্যাংক ব্যাজ দেখে সন্দেহ হলে। সেনানিবাস মাওয়া ক‍্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়।যাচাই বাছাই দেখা যায় তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য নয়। ফেরি ঘাটের পন্টুনে উপরে পৌছালো ঘাটের ডিউটিতে থাকা সেনা সদস্যরা আটক করে।

ভুক্তভোগী রাজিব হাওলাদার (২৫) পিতা দলিল উদ্দিন হাওলাদার এবং মিজানুর রহমান(২৪) পিতা আলাল উদ্দিন জানান, আমরা পানের বড়জের শ্রমিকের কাজ করি. মো. কবির হোসেন বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে নিজেকে পরিচয় মাধ্যমে সম্পর্ক হয়।তিনি আমাদের বলেন মালি পদে চাকুরী দেওয়ার আশ্বাস দেয়। তারা আরো জানান এর আগে তিনি অনেকেই চাকুরী দিয়েছে। তবে চাকুরী পেতে তিনি ৪ লাখ টাকা এবং আমার নিকট তম বন্ধুর থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবী  করেন। সরকারি চাকুরী পাওয়া আশায় আমরা তাকে টাকা দেই।তার সাথে ঢাকা উদেশ‍্যে রওনা হই।আমাদের যে কাগজপত্র দিয়ে ছিল তাতে সেনাবাহিনীর সীল ছিল।আমরা গরিব মানুষ অনেক কষ্টে  টাকা সংগ্রহ করেছি চাকুরী পাবো আশায়। সে প্রতারণা করবে তা আমরা বুঝতে পারি নাই। গতকালের ঘটনার অনেকেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করে এবং তার কাছে প্রতারণা শিকার হয়েছে বলে জানান।

লৌহজং থানা ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, মো.কবির হোসেন নামে একজন ব‍্যাক্তি ভুয়া সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন লোকজনের সাথে প্রতারণা ও ভুয়া নিয়োগপত্র, ভূয়া চাকুরী যোগদান পত্র সহ সর্বমোট ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার তিনি দুজন কে নিয়ে ঢাকা যাওয়া পথে শিমুলিয়া মাওয়া ঘাট থেকে সেনাবাহিনী সদস্যদের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের কাছে ভুক্তভোগি সরল বিশ্বাস প্রতারণার শিকার প্রাথমিক কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  গ্রেফতারকৃতকে রোববার আদালতে প্রেরণ করা হবে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ :