আজ ৪ঠা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :

ভুয়া ওয়ারেন্টে কারাবাস শেষে মুক্তি: প্রবাসীর আর্তনাদের ভিডিও যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল

মো. শওকত হোসেন: ঘড়ির কাটায় রাত ১১টা ৪৫ মিনিট। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাইজগাঁও গ্রামে সাইপ্রাস থেকে আসা প্রবাসী মাহমুদুর রহমান ওরফে দোলন খান নামে এক জনকে ঘুম থেকে উঠিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে গাড়িতে উঠান। কিছু দুর গিয়ে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে এ মামলা থেকে অব্যহতি দিতে ৫ লাখ টাকা দাবি করে পুলিশ। ১ লাখ টাকা দেয়ার কথা বললে তাকে থাপ্পর দিয়ে বলে তর লাইফ শেষ। এ নিয়ে গত কয়দিন যাবত লৌহজং উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী দোলন খানের একটি ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও বার্তায় দোলন বলেন, গত মার্চে সাইপ্রাস থেকে বাংলাদেশে তার নিজ বাড়ি মাইজগাঁও গ্রামে আসেন। আসার ১০ দিন পর রাত আনুমানিক রাত পৌনে ১২ টার দিকে লৌহজং থানা পুলিশের এস আই রাজু তার বাড়িতে এসে কোন কিছু জিগ্যাস না করে হাতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে গাড়িতে উঠায়। গাড়িতে উঠাইয়া বলে তর নামে মামলা আছে ৫ লাখ টাকা দাবী করে বলে এই মামলা শেষ করে দিবো। পরবর্তিতে তিনি ১ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। তখন এস আই রাজু বলেন, এক লাখে কিছুই হবেনা। তর লাইফ শেষ। তখন তার পুলিশের মানষিক টর্চারে অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা নেন। পরদিন সকালে ২৩ মার্চ তাকে মুন্সীগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরন করে। হাজতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরলে সে হাজত মেডিকেল বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ০৫ এপ্রিল তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলখানা থেকে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরন করে। এবং কারাগার থেকে গত ০৯ এপ্রিল  ছাড়া পেয়ে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পরেন। পরবর্তিতে তিনি যানতে পারেন জাল ওয়ারেন্টে বিনা অপরাধে ১৮ দিন হাজত বাস করেছেন।

দোলন খান আরোও জানার লৌহজং থানা থেকে জাল ওয়ারেন্টে বিনা অপরাধে ১৮ দিন হাজত খেটেছেন। যাতে আর কোন ব্যক্তি তার মত বিনা দোসে হাজত খাটতে না হয়। পুলিশের মিথ্যা ওয়ারেন্টে হাজত বাস করার জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচারের দাবী জানান।

খোঁজ নিয়ে ও মামলার হাজিরা সুত্রে যানাযায়, মোকাম বিজ্ঞ সি.এম.এম সাহেবের আদালত,ঢাকা। সূত্র: গুলশান থানার মামলা নং-০৩ (০৯) ২০১৫। ধারা: ২০১২ সনের মানবপাচার প্রতিরোধ আইন ১০ (২)/৮, সি.আর নং-২৩২/২০১৫। বিষয়: জাল ওয়ারেন্টে গ্রেফতারকৃত হাজতী আসামী মাহমুদুর রহমান ওরফে দোলন খান। যেহেতু দরখাস্তকারী আসামীর পক্ষে বিজ্ঞ নিয়োজিত আইনজীবি গ্রেফতারকৃত আসামীর মামলায় খোঁজ নিয়ে জানিতে পারেন, ওয়ারেন্টের উল্লেখিত গুলশান থানার মামলা নং-০৩(৯)২০১৫,বারা-২০১২ মানবপাচার আইনে ১০(২)/৮ এই নম্বরে কোন মামলা নাই। কিন্তু গুলশান থানার মামলা নং- ০৩(৯)২০১৫ দ: বি: আইনের দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত পূবক মামলায় ধারায় চুরান্ত রিপোর্ট দাখিল করিয়েছে। এতে প্রমানিত হয় যে, আদালতের লোকজনের যোগসাজসে ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করিয়া উক্ত ওয়ারেন্টটি তৈরি করে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে প্রেরন করেছে।

এ ব্যপারে দোলনের আইনজীবি মজিবুর রহমান জানান, আমরা জাচাই করে দেখেছি স্মারকপত্রে উল্লেখিত আসামি মাহমুদুর রহমান ওরফে দোলন খান গুলশান থানার মানব পাচার মামলার কোনো আসামি নয়। বর্ণিত স্মারকে উল্লেখিত গ্রেফতারী পরোয়ানা এয়ারেন্ট জাল হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামী দোলনকে বেকসর খালাস দেন। 

তিনি আরো জানান একটি চক্র প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে আদালত থেকে এ ধরনের ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা তৈরি করে ডাকযোগে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে। এরপর ঐ গ্রেফতারি পরোয়ানা যাচাই-বাছাই না করেই পাঠিয়ে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট থানায়। থানার কাছে ঐ গ্রেফতারি পরোয়ানা পৌঁছার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ি পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করতে যায়। ঐ আসামি মামলা দায়ের ও গ্রেফতারি পরোয়ানার ব্যাপারে আগাম কোন তথ্য জানেন না। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয় লৌহজং থানার এসআই রাজু জানান, দোলনকে ওয়ারেন্ট দেখিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামীর কাছ থেকে টাকা চাওয়ার কথা সম্পুর্ণ মিথ্যা।

এ ব্যপারে লৌহজং থানা ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ি আসামীকে কোর্টে প্রেরন করা হয়েছে। ওই মামলার বিষয় সংশিষ্ট থানা ও বিজ্ঞ আদালত বলতে পারবে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ :