আজ ৩রা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে পাওনা টাকা চাওয়ায় বন্ধুকে খুন

 

স্টাফ রিপোর্টার: নয়ন মন্ডলকে (২৬) মাটি কাটার ভেকু দিয়ে ব্যবসা করার জন্য রিপন মন্ডলের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহত অনুপ বাউল (৩৪)। দুজনের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে অনুপ বাউলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নয়ন। পরিকল্পনার দুইদিন পর রিপনহ চারজন অনুপ বাউলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা। হত্যার পর ভেকু দিয়ে মাটি খুঁড়ে বালির নিচে লাশ পুঁতে রাখে রিপন মন্ডল (৩২)।  এ ঘটনার পাঁচ মাস পর নিখোঁজ স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহত অনুপ বাউলের মরদেহ বালির নিচ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় পিবিআই ভেকুর মালিক রিপন মন্ডল (২৬), নয়ন মন্ডল (২৬), পিযুষ করাতি (২৫) ও দিলীপ চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকালে ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, গত ৪ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকা থেকে শ্বশুরবাড়ি মাদারীপুর যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনুপ বাউল। এ ঘটনায় পরদিন নিখোঁজের ছোট ভাই বিপ্লব বাউল সিরাজদীখান থানায় একটি জিডি করেন।

তিনি আরও বলেন, পিবিআইয়ের তদন্ত দল প্রথমে ড্রামে করে লাশ বহনকারী অটোচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে আসামি রিপন, পিযুষ, নয়ন ও দিলীপকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যমতে এবং রিপনের শনাক্ত মতে লাশ গুমের স্থান চিহ্নিত করা হয়। এরপর  বুধবার সিরাজদিখানের বোয়ালখালীতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এলাকায় রিপন তার নিজস্ব ভেকু চালিয়ে ১৬ ফিট গভীর বালির নিচ থেকে ভিকটিমের অনুপ বাউলের অর্ধগলিত লাশ বের করে। আসামিদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, নিহত অনুপ বাউলের স্বর্ণ ব্যবসার অংশীদার নয়ন মন্ডল। তাদের দুইজনের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়ন মন্ডল স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনুপ বাউলকে খুনের পরিকল্পনা করে। নয়ন তার চাচাতো ভাই রিপন, পিযুষ ও দিলীপের সাহায্য নিয়ে অনুপ বাউলকে হত্যা করে। গত ৪ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে নয়ন মন্ডল অনুপ বাউলকে পাওনা টাকা দেওয়া এবং মাদারীপুরে স্বর্ণের অর্ডার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জয়েনপুরে ডেকে নিয়ে আসে। জয়েনপুরে রিপন মন্ডলের গ্যারেজে আগে থেকে অপেক্ষমান রিপন মন্ডল, পিযুষ ও দিলীপের সঙ্গে নয়ন ও নিহত অনুপ বাউল একত্রিত হয় এবং তাদের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে ভিকটিমের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে চারজন মিলে অনুপ বাউলকে গ্যারেজের খাটের মধ্যে ফেলে কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ একটি ড্রামে ভরে রাখে। পরবর্তীতে বিকেল ৩টার দিকে অধিরের অটোতে করে আসামিরা লাশ ভর্তি ড্রামটি সিরাজদিখানের বোয়ালখালীস্থ বিসিক এলাকায় বালুর মাঠের কাছে নিয়ে যায়। ড্রাম রেখে অটোচালক চলে গেলে আসামিরা ড্রামটিকে বালুর মাঠের ভেতরে নিয়ে যায়। তারপর কাদাযুক্ত একটি স্থানে লাশ পুঁতে ফেলে আসামিরা চলে যায়।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ :