আজ ৪ঠা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :

মুন্সীগঞ্জের চরমুক্তারপরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরমুক্তারপুরে এখন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদক প্রতিরোধে পুলিশ-প্রশাসনের উদ্যোগে মাঝে মধ্যে মাদক বিরোধী সভা-সমাবেশ করলেও এতে হচ্ছে না কোন লাভ। পুলিশ-প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। হাত বাড়ালেই মিলছে নানা ধরণের মাদকদ্রব্য। এক সময় শুধু গাজার রাজত্ব ছিলো এখানে। গাঁজার পাশাপাশি এখন ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবার রাজত্ব চলছে চরমুক্তারপুর এলাকার প্রতিটি অলি-গলিতে।
চরমুক্তারপুর এলাকাটি একটি শিল্পনগরী হওয়ার কারণে বিভিন্ন জেলা বা অঞ্চল থেকে মানুষ চাকরি বা ব্যবসা করতে আসে। স্থানীয় ও বহিরাগত মিলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করে। আর এই সুযোগ নিয়ে এলাকার মাদকচক্র, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকের ডিলাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করছে। নারায়ণগঞ্জের শেষ ও মুন্সীগঞ্জের প্রথম বর্ডার হওয়ার কারণে চরমুক্তারপুর এলাকাটি মাদকের বর্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক প্রতিরোধ নিয়ে সবাই ভাল ভাল কথা বলে দায় এড়িয়ে যায়। তবে বাস্তবে এর কোন ফল পাওয়া যায় না। সদর উপজেলার উপকন্ঠ চরমুক্তারপুরে এখন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন উদ্যোগ নিলেও কোন কাজ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে মাদকের বিস্তার কমানো যাবে না।

জানা গেছে, এখন গাঁজা-ফেন্সিডিল ও বিআরের পাশাপাশি হরদমে চলছে মরণ নেশা ইয়াবার। যা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। ইয়াবার ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে ভাল ভাল পরিবারের সদস্যরা। তাই স্থানীয়রাও ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন না। এসব মাদক ব্যবসায়ীরা সবাই অল্প বয়সী। এরা রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে বিক্রি করছে মাদক। যারা মাদকের ব্যবসায় জড়িত তা হঠাৎ কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ এরা সবাই ভাল পরিবারের সন্তান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, মাদকের ভয়ানক থাবায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের আল্প বয়সী ছেলেরা। ধ্বংস হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও। তাদের মতে নতুন নতুন মাদক ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে বাড়ছে মাদক সেনবকারীর সংখ্যাও।

এসব মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক তুলে দিচ্ছে উঠতি বয়সী যুবকদের হাতে। যার মধ্যে বেশিভাগ স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা। মা-বাবার চোঁখের সামনে মাদকাসক্ত হচ্ছে যুবক ছেলে। এ কষ্ট কিভাবে মেনে নিবে অভিভাবকরা। তাই মাদকাসক্ত সন্তানদের চরম দু:শ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে অভিভাবকরা। যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম ভূইঁয়া বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা অবগত আছি। স্থানীয়দের মাদকের ব্যাপারে তথ্য দিতে বলা হয়েছে। আমরা মাদক নির্মূলে দ্রæত একটি সাঁড়াশি অভিযান চালাবো। মাদকের সাথে কোন আপোষ নেই। খোঁজ পেলেই এসব মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা হবে। মাদকের ব্যাপারে কঠোরভাবে মাঠে কাজ করছি। যে কোন মাদক ব্যবসায়ীকে পাওয়া মাত্রই আটক করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ :