আজ ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :

পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে রাজধানীতে আসছে কোরবানির গরু

সভ্যতার আলো রিপোর্ট: যশোর থেকে  পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রাকে করে কোরবানির জন্য গরু নিয়ে আসা হচ্ছে রাজধানীতে। সেতু উদ্বোধনের পর যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে। আগে এই গরু পরিবহনের কাজেই ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হতো ব্যবসায়ীদের।

‘যশোর থেকে গরু নিয়ে ঢাকা যেতে হলে আগে দুই থেকে তিন দিন পার হয়ে যেত, কখনো কখনো গরু মারা যেত। এখন দ্রুত আসলাম। ভোগান্তি ছাড়াই এত দ্রুত পার হতে পারব ভাবিনি। কথাগুলো বলছিলেন যশোর থেকে গরু নিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকার দিকে যাওয়া গরু ব্যবসায়ী আক্কাস মিয়া।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোর, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, বরগুনা, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলা থেকে গরু নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যান ব্যবসায়ীরা। তাদের বাংলাবাজার-শিমুলিয়া, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া, নরসিংহপুর চাঁদপুর ফেরি ঘাট পারাপার হতে হতো। যানজটের কারণে ঢাকায় ঢুকতে তাদের দুই থেকে তিন দিন পার হয়ে যেত।

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর টোল প্লাজায়  কোনো যানজট নেই। গাড়ি আসলেই টোল দিয়ে সেতু পার হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গরুবাহী গাড়ির কোনো সিরিয়াল নেই।

গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের আগে ঢাকার বাজার ধরতে হলে ঝুঁকি নিয়ে আসতে হত। গরু লালনপালন করে বাড়ি থেকেই ফরিয়াদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হত। কারণ গরু একটু এদিক সেদিক হলেই মারা যায়। তাই ঝুঁকিতে যেতাম না। যে যেই দাম বলত সেই দামেই গরু বাড়ি থেকে বিক্রি করে দিতাম। এতে গরু লালনপালন করে তেমন লাভ হতো না। তবে এবার পদ্মা সেতু হওয়াতে ঢাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে গরু নিয়ে যেতে পারছি। আর যেই ঝুঁকি ছিল তাও নেই।

যশোর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী  বলেন, আমি এই রুটে নতুন না। ৩০ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করি। ফেরি ছাড়া যাওয়ার কোনো রাস্তা আমাদের ছিল না। হয়ত পাটুরিয়া বা শিমুলিয়া অথবা চাঁদপুর ঘাট আমরা ব্যবহার করতাম। এতে এলাকা থেকে গরু কিনে ঢাকায় যেতে যেই সমস্যা হতো, তার থেকে বেশি সমস্যা হতো ফেরি ঘাটে। দিনের পর দিন বসে থাকতে হতো। আবার গরম পড়লে গরু অসুস্থ হয়ে মারাও যেত। পদ্মা সেতু হওয়াতে এখন আর সেই সমস্যাটি হবে না। আসব আর পদ্ম সেতু পার হয়ে চলে যাব। পুরো রাস্তায় কোথাও কোনো যানজট পড়িনি।

গরু ব্যবসায়ী রাজন হোসেন বলেন, প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫টা গরু আমার নিজের পালে হয়। সেগুলো আমি ওখান থেকেই বিক্রি করে দিতাম। অনেক ঝামেলা হতো গরু নিয়ে ঢাকা বা অন্য কোথাও যেতে। কিন্তু এবার পদ্মা সেতু হওয়াতে গরু নিয়ে আমি নিজেই ঢাকায় যাচ্ছি। আশা রাখি ভালো ব্যবসা হবে। এগুলো বিক্রি করতে পারলে আগামী বছর আরও বেশি গরু লালনপালন করব।

পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্টের টোল ম্যানেজার কামাল হোসেন বলেন, পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্টে যানজট নেই। নিরবচ্ছিন্নভাবে পার হয়ে যাচ্ছে গাড়ি। প্রতিদিনই গরুর গাড়ি আসছে। টোল দিয়েই পার হয়ে যাচ্ছে পদ্মা সেতু।

 

সভ্যতার আলো/ মাহবুব

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ :