আজ ৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :

সিরাজদিখানে প্রস্তত ১১৭ টি পূজামন্ডপ

 

সালাহউদ্দিন সালমান॥
আগামী ১লা অক্টোবর শনিবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহোৎসব শুরু হবে। এ উপলক্ষে শেষ সময়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১১৭ টি পূজা মন্ডপে প্রতিমা প্রস্তুতিতে সাজসজ্জার কাজ করছেন কারিগররা। নিখুঁতভাবে কাজ ফুটিয়ে তুলতেই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে তারা। আগামী ১লা অক্টোবর শনিবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ মহোৎসব শুরু হবে এবং ৫ই অক্টোবর বিজয়া দশমী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের মহোৎসব। সরেজমিনে উপজেলার মালখানগর,রশুনিয়া,বয়রাগাদী সহ কয়েকটি ইউনিয়নের পূজা মন্ডপে ঘুরে প্রতিমা কারিগরদের ব্যস্ততার চিত্র দেখা গেছে।

প্রতিমা কারিগররা নিপুণ হাতে তৈরি করছে এক একটি প্রতিমা। অতি ভালবাসায় তৈরি করা হচ্ছে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ, অসুর ও শিবের মূর্তি। কারিগররা বলছে প্রতিমার কাজ শেষ করে ভক্তদের কাছে সুন্দর ভাবে দেওয়ার জন্য কাজ করছে তারা। জানা যায়,উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩ টি ইউনিয়নে ১১৭ টি পূজা মন্ডপে পূজার্চনার আয়োজন করা হবে। যা গতবছরের তুলনায় ৯ টি বেশি। বালুচর ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ে না থাকায় এখানে কোন পূজা মন্ডপ নেই। এ বছর চিত্রকোট ইউনিয়নে ১৯ টি পূঁজা মন্ডপ, শেখরনগর ১৪ টি, রাজানগর ১৩ টি,কেয়াইন ১৮ টি,বাসাইল ৪ টি,রশুনিয়া ১২ টি ,ইছাপুরা ৪ টি, জৈনসার ৬ টি,মধ্যপাড়া ৪ টি,লতব্দী ৪ টি,মালখানগর ৯টি,বয়রাগাদী ৫টি এবং কোলা ইউনিয়নে ১টি পুজামন্ডপে দুর্গাৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা কারিগর শিপন পাল বলেন, প্রতিমা তৈরি করা অনেক কষ্টের। আমি আমার বাবার কাছ থেকে শিখেছি। এবার আমি ৫টি প্রতিমা তৈরি করছি। আর আগের মতো লাভ হয় না। তার পরও করতে হয় সংসার চালানোর জন্য। এখন দুর্গা প্রতিমাগুলোর সুসজ্জিত করা হচ্ছে। আরেকজন প্রতিমা কারিগর গৌরাঙ্গ পাল বলেন, প্রতিমা তৈরি শেষ, এখন রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে অবয়ব। ফুটিয়ে তোলা হবে নাক-চোখ-মুখ। তারপর ভক্তদের কাছে দেওয়া হবে। উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোবিন্দ্র দাস পোদ্দার জানান, উৎসাহ উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মালম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গোৎসব নিয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় চলছে সাঁজ-সাঁজ রব। পূজার আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে পুজারী থেকে শুরু করে কর্মব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা কারিগররা। সব মিলিয়ে প্রতিটি এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে মহা আনন্দের ছোয়া। তবে এক্ষেত্রে সকল আনন্দকে সর্বোত্তম জায়গায় এগিয়ে নিতে সর্বশেষ পরিশ্রমের মূলে রয়েছে প্রতিমা তৈরির কারিগররা। প্রত্যেক কারিগরের শুধু লক্ষ্য তৈরিকৃত প্রতিমার সৌন্দয্য বৃদ্ধি করে ভক্তদের আনন্দকে সার্থক করে তোলা। তাই শেষ মূহুর্তে প্রস্তুতিতে যেন দম ফেলার ফুরসুত নেই তাদের। সিরাজদিখান থানার ওসি একে মিজানুল হক বলেন, এবার যেকোন দূর্ঘটনা প্রতিহত করতে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে দেবী বিসর্জন পর্যন্ত সেচ্ছাসেবী টিমসহ প্রশাসনিক নজরদারি সার্বক্ষণিক থাকবে। প্রতিটি পূজামন্ডপের সভাপতি-সাধারন স¤পাদকদের সাথে আমার কথা হয়েছে। বিভিন্ন পূজামন্ডবে আনছার, পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং প্রতিটি পূজামন্ডপে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ :