আজ ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ :

যুবদল কর্মী শাওনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশসহ ৩৫৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার:  মুন্সীঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে যুবদল কর্মী শহিদুল ইসলাম ওরফে শাওন নিহতের ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ ৩৫৯ জনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন খান বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-১-এর বিচারকের কাছে মামলার আবেদন করেন। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা আক্তার আবেদন গ্রহণ করে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

মামলায় মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেবসহ ৯ পুলিশ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী সালাউদ্দিন খান কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য।

মামলার আসামিরা হলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিনহাজ উল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব, মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুজ্জামান, সদর থানা উপররিদর্শক মো. ফরিদ উদ্দিন, মো. আরিফুর রহমান, সুকান্ত বাউল, সহকারী উপপরিদর্শক নকুল চন্দ্র ধর, অজিত চন্দ্র বিশ্বাস ও মন্টু বৈদ্য।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পুলিশের গুলিতে শহিদুল ওরফে শাওনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আমরা আদালতে অভিযোগ দাখিল করেছি। আদালত জানিয়েছেন পরে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।’

 

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর পুরোনো ফেরিঘাটের কোল্ডস্টোরেজের সামনে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। সমাবেশে অংশ নিতে দুপুর থেকেই নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে জড়ো হন। এর একপর্যায়ে অতি উৎসাহী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীকদের হাত থেকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও দলের তারেক রহমানের ছবিসংবলিত ব্যানার ছিনিয়ে নেন। এ সময় মিনহাজুল ইসলাম পা দিয়ে ব্যানার মাড়াতে থাকেন। পরে মিনহাজুল ইসলাম মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং তাঁর নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেটসহ সশস্ত্র আক্রমণ শুরু করেন।

হামলার শিকার হয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আহত অবস্থায় এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাম উল্লেখ করা ৯ জন ও অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ২০০ থেকে ৩০০ জন সশস্ত্র সরকারদলীয় সন্ত্রাসী বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। যুবদল নেতা শহিদুল তখন ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে লাগলে পুলিশ শহিদুলের কপালের ডান দিকে গুলি করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শহিদুল মারা যান। শহিদুলের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী সালাউদ্দিন খান বলেন, ‘অভিযোগ দাখিল করেছি। আদালতের আদেশের অপেক্ষায় আছি।’

শহিদুলের পরিবারের কেউ বাদী হলেন না কেন, জানতে চাইলে সালাউদ্দিন বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশে তিনি মামলার বাদী হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা ভয়ে-আতঙ্কে আছেন। এ জন্য তাঁরা মামলার বাদী হননি। তবে পরবর্তী সময় তাঁরা এ মামলার সঙ্গে যুক্ত হবেন।

 

মামলার বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব  বলেন, বিএনপির লোকজন আদালতে যে মামলার আবেদন করেছেন, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তাঁরা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য আদালতে এমন একটি অভিযোগ করেছেন। শহিদুল হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে।

 

প্রসঙ্গত, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও দলীয় নেতা-কর্মী হত্যার প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জ শহরের পাশে মুক্তারপুরে গত বুধবার বেলা তিনটার দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা বিএনপি। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় গুলিতে শহিদুল ও বিএনপির সমর্থক জাহাঙ্গীর মাতবর (৩৮) গুরুতর আহত হন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে শহিদুল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ :