সোমবার , ১০ মার্চ ২০২৫ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আরো
  7. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  8. কলাম
  9. কৃষি
  10. খুলনা বিভাগ
  11. খেলাধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. চট্টগ্রাম বিভাগ
  14. জাতীয়
  15. ঢাকা বিভাগ

ডে লাইট সেভিংস পদ্ধতি বাংলাদেশে চালু করা কি সম্ভব ?

প্রতিবেদক
সভ্যতার আলো ডেস্ক
মার্চ ১০, ২০২৫ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ

ফারুক আহমেদ

আজ ৯ই মার্চ ২০২৫ থেকে কানাডা এবং আমেরিকা সহ বিশ্বের অনেক দেশেই ডে লাইট সেভিংস পদ্বতি চালু হতে যাচ্ছে এবং তা চলবে আগামী ২ নভেম্বর ২০২৫ । যা চলবে ৭ মাস ২৪ দিন !

বাংলাদেশে ডে লাইট সেভিং পদ্ধতি কি বাংলাদেশে চালু করা সম্ভব কিনা তা বুঝার জন্য পুরো বিষয়টিই আলোকপাত করা দরকার । একই সাথে জানা দরকার বিশ্বের কোন কোন ডে লাইট পদ্বতি চালু আছে এবং তারা এই পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক ভাবে কতটুকু লাভবান হচ্ছে ?

ডে লাইট সেভিং পদ্ধতি কী?

ডে লাইট সেভিংস (Daylight Saving Time – DST) হল একটি সময় পরিবর্তনের ব্যবস্থা যেখানে গ্রীষ্মকালে ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়, ফলে সন্ধ্যা বেশি সময় ধরে আলোকিত থাকে এবং সকালের আলো তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত হয়। সাধারণত, বসন্তের শুরুতে সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয় এবং শরৎকালে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়।

ডে লাইট সেভিং পদ্ধতির উপকারিতা:

১. বিদ্যুৎ সাশ্রয়: সন্ধ্যায় দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক আলো পাওয়ার ফলে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কমে যায় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।

২. অর্থনৈতিক সুবিধা: বিদ্যুৎ খরচ কমে আসার ফলে জ্বালানি খরচও কমে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৩. কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: দিনের আলোতে বেশি সময় কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

৪. সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস: সন্ধ্যার সময় আলোকিত পরিবেশ থাকায় দুর্ঘটনার হার কমে।

৫. পরিবেশগত সুবিধা: কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে কার্বন নিঃসরণ কম হয়, যা পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক।

বিশ্বের কোন কোন দেশে ডে লাইট সেভিংস চালু আছে?

বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ ডে লাইট সেভিং পদ্ধতি অনুসরণ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো:

১. উত্তর আমেরিকা: যুক্তরাষ্ট্র (কিছু রাজ্য ব্যতিক্রম), কানাডা, মেক্সিকো

২. ইউরোপ: যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন

৩. অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড: অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চল, নিউজিল্যান্ড

৪. দক্ষিণ আমেরিকা: ব্রাজিলের কিছু অংশ, চিলি

৫. মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া: ইরান, লেবানন, সিরিয়া

বাংলাদেশে ডে লাইট সেভিং চালুর সম্ভাবনা:

বাংলাদেশে ২০০৯ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ডে লাইট সেভিং চালু করা হয়েছিল। তবে কিছু সমস্যা, যেমন সময় পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর অসুবিধা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবের কারণে এটি পরবর্তীতে বাতিল করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে যে হারে লোড শেডিং এর কারণে মানুষের জীবনে যে দুর্বিসহ নেমে আসছে এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ক্রমবর্ধমান হওয়ায় ডে লাইট সেভিংস আবারও চালু করার জন্য সরকার খুব গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে ।

তবে এটি বাস্তবায়ন করতে হলে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

বাংলাদেশে ডে লাইট সেভিং চালু করতে যা যা লাগবে:

১. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ জনগণকে ডে লাইট সেভিংস সম্পর্কে সচেতন করতে গণমাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে।

২. আইনি কাঠামো: সরকারকে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে।

৩. কার্যকর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা: ধাপে ধাপে পদ্ধতিটি বাস্তবায়ন করতে হবে এবং প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে হবে।

৪. ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমন্বয়: সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সময়সূচি সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারকে ডে লাইট সেভিংস চালুর জন্য যে বিষয়গুলোতে কাজ করতে হবে:

১. প্রশাসনিক কাঠামো গঠন: সরকারকে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে হবে, যারা ডে লাইট সেভিংস বাস্তবায়নের উপযুক্ত পরিকল্পনা তৈরি করবে।

২. সংশ্লিষ্ট খাতের সাথে পরামর্শ: ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ এবং পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে কার্যকর নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

৩. পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা: নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে ডে লাইট সেভিং চালু করে তার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করতে হবে।

৪. আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন: একটি আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ডে লাইট সেভিং বাস্তবায়নের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

৫. প্রযুক্তিগত সমন্বয়: সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সময়সূচি, অফিস ব্যবস্থাপনা, ট্রান্সপোর্ট সেক্টর, এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে সমন্বয় করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য ডে লাইট সেভিং পদ্ধতির অর্থনৈতিক লাভ:

১. বিদ্যুৎ সাশ্রয়: অফিস ও ঘরবাড়িতে কম বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হবে, যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে।

২. জ্বালানি ব্যয় হ্রাস: বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল বিভিন্ন খাত, যেমন কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি ব্যয় কমবে।

৩. শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: দিনব্যাপী দীর্ঘ সময় কাজের সুযোগ থাকায় উৎপাদনশীলতা বাড়বে।

৪. পর্যটন শিল্পের উন্নতি: সন্ধ্যায় বেশি সময় আলো থাকায় পর্যটন শিল্প উপকৃত হতে পারে।

উপসংহার:

বাংলাদেশে ডে লাইট সেভিংস পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে হলে উপযুক্ত পরিকল্পনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বয়ের প্রয়োজন। সঠিক কৌশল অবলম্বন করা গেলে এটি দেশের বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

লেখক: কলামিস্ট

 

 

সর্বশেষ - মুন্সীগঞ্জ

আপনার জন্য নির্বাচিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের সম্মানে জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মুন্সীগঞ্জে বেসরকারি শিক্ষকের স্মারকলিপি প্রদান

মুন্সীগঞ্জ শিল্পকলায় কাল মঞ্চস্থ হচ্ছে নাটক ছিন্নমুকুল

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে মটুকপুর রহমানিয়া তা’লীমুল কোরআন মাদ্রাসায় ১দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত

সিরাজদিখানে তাঁতী লীগের শোক দিবস পালন 

সিরাজদিখানে তাঁতী লীগের শোক দিবস পালন 

লৌহজং কলেজ সরকারিকরণ উপলক্ষে আনন্দ উৎসব ও শোভাযাত্রা

মুন্সীগঞ্জের নিরব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য

মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে শতায়ু সংঘের মতবিনিময় সভা

মুন্সীগঞ্জের মেঘনার নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিয়ার ওপরে

দূষণের কারণে ইলিশ গতিপথ পাল্টাচ্ছে